রুবেল হোসেনের সমস্যা কোথায়?

২০১৫ বিশ্বকাপের সেই রুবেল হোসেনের সাথে যদি বর্তমান রুবেল হোসেনের তুলনা করা হয়, তাহলে হয়ত চোখে পড়বে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সেই রুবেল বাংলাদেশকে একাই এনে দিয়েছেন অনেক অর্জন। আর বর্তমান রুবেল দলকে সহায়তা করা দূরে থাক, তার পারফরম্যান্স দলের জন্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে ব্যর্থতার কারণ।

রুবেলের খাপছাড়া বোলিংয়ের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত পাওয়া গেছে আফগানিস্তান সিরিজে। এর আগে নিদাহাস ট্রফিতেও তার অপরিকল্পিত বোলিং হয়েছিল দলের পরাজয়ের কারণ। সময়ের স্রোতে ভেসে রুবেলের এতো নেতিবাচক পরিবর্তনের কারণটা কী?

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা কোচ ও ক্রিকেট বিশ্লেষক সারোয়ার ইমরান খুঁজেছেন সেই প্রশ্নের উত্তর। তার মতে, রুবেলের স্কিলের অভাব আর নিজের উপর ভরসা না থাকার কারণেই এই অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন।

সম্প্রতি ক্রিকেট বিষয়ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিডি ক্রীক আপডেট কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেন, রুবেলের ইয়র্কার ঠিক জায়গায় পড়ছে না। ইয়র্কারগুলো এমন জায়গায় পড়ছে যে লেন্থে পড়লে ব্যাটসম্যানদের জন্য শট খেলা সহজ হয়ে যায়। এর মূল কারণ হবে রুবেলের নিজের সামর্থ্যের উপর সন্দেহ এবং তার স্কিলের ঘাটতি দেশসেরা কোচ ঘাটতি দেখছেন রুবেলের আত্মবিশ্বাসেও। তিনি বলেন, যখন কোনো পেসার ইয়র্কার বল করতে যাবে, তখন তার মনে কোনো সংশয় থাকা উচিত নয়। বল ছুঁড়ার আগেই বল জায়গামত না পড়লে কী হবে তা নিয়ে চিন্তা করছিল সে, আর এটাই সম্ভবত তার ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় কারণ নিজের বোলিং নিয়ে রুবেল চেষ্টা করছেন বৈচিত্র্য আনয়নের। এতেই হচ্ছে সমস্যা। সারোয়ার ইমরানের ভাষ্য, প্রথমত তার সমস্যা হচ্ছে অ্যাকুরেসিতে, বিশেষত বাউন্সার, ইয়র্কার ও রিভার্স সুইংয়ের মত ডেলিভারির আসল ব্যাপারগুলোতে। পেসারদের হয় ১৪০ কিলোমিটারের চেয়েও বেশি গতি থাকবে হবে, না হয় অনেক বৈচিত্র্য। বর্তমানে অনেক বোলারই আছে যারা ১৪০ কিলোমিটারের চেয়েও বেশি গতিতে বল করে। কেউ বোলিংয়ে নতুন কোনো বৈচিত্র্য আনতে হলে সেটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রয়োগ করার আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যবহার করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *