দল হারলেও নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন সাকিব

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে পাঁচ উইকেটে হারলো সাকিব আল হাসানের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। আর এই ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে সুনিল নারিনকে আউট করে দারুণ রেকর্ড গড়লেন সাকিব।

আইপিএল ইতিহাসের নিজের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ (১৩টি) উইকেটের রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই পোস্টার বয়। এর আগে ২০১২ সালে মাত্র আট ম্যাচ খেলে নিয়েছিলেন ১২ উইকেট। এটিই তার সর্বোচ্চ ছিল।

কিন্তু শনিবার রাতের ম্যাচে নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। এখন পর্যন্ত হায়াদ্রাবাদের হয়ে ১৪ ম্যাচ খেলে নিজের ঝুলিতে রেখেছেন ১৩টি উইকেট। এদিকে এই আসরে আরেকটি রেকর্ড গড়লেন তিনি।

এটাও নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার রেকর্ড। আর তা হচ্ছে আইপিএলের গ্রুপ পর্বে টানা ১৪ ম্যাচ এইবারই প্রথম খেললেন তিনি। আইপিএলের এক আসরে এর আগে এতো ম্যাচ খেলেননি সাকিব। অথচ সাকিব আইপিএল খেলছেন ২০১১ সাল থেকে।

এই আট বছরে এই প্রথম টানা সবগুলো ম্যাচ খেললেন তিনি। নতুন ফ্রেঞ্চাইজি হায়দ্রাবাদ তাকে এক ম্যাচেও বিশ্রাম দেয়নি। অথচ কলকাতার হয়ে সাইড বেঞ্চেই বেশি সময় কাটাতে হতো সাকিবকে।

কলকাতার হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ টি ম্যাচ খেলেছিলেন ২০১৩ সালে। এদিকে এবারের আসরে বোলিংয়ে ভালো করলেও ব্যাটিংয়ে মোটামুটি মানের পারফর্মেন্স করছেন সাকিব। বল হাতে ১৩ উইকেট পেয়েছেন ওভার প্রতি আটের কম রান দিয়ে। আর ব্যাট হাতে ১৪ ম্যাচে করেছেন ১৭৬ রান।

জন্মদিনে গাড়ী উপহার পেলেন রাসেল

বরাবরেই টি-২০তে দুর্দান্ত উইন্ডিজ তারকা আন্দ্রে রাসেন। বল হাতে দম ছুটিয়ে দিতে পারেন প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের। সেই রাসেলেই আজ পদার্পন করলেন ৩০ বছরের। আর প্রিয়জনের কাছ থেকে রাসেল উপহারো পেলেন একটি গাড়ী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে গাড়ির ছবি আপলোড করে রাসেল লিখেন, ‘সময় মতোই পেয়ে গেলাম জন্মদিনের উপহার।’ তবে কে বা কারা তাকে এই সুদৃশ্য গাড়িটি উপহার দিয়েছেন সেই ব্যাপারে কিছু খোলাসা করেননি কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলা এই ক্রিকেটার।

চলতি মৌসুমে এখনো পর্যন্ত ৮ ম্যাচ খেলে ২০২ স্ট্রাইকরেটে ২০৭ রান করেছেন রাসেল। এছাড়াও বল হাতে ১৯ ওভার হাত ঘুরিয়েই ৫ টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি।

সাকিবদের ছাপিয়ে আবারো শীর্ষে চেন্নাই

সোমবার রাতে আইপিএলের দর্শকরা রিতিমতো দেখলো ওয়াটসন-ধোনি শো। এই ম্যাচে ওয়াটসন-ধোনি একাই হারিয়ে দিলেন দিল্লিকে। আর এই ম্যাচে জেতার ফলে সাকিবের হায়দ্রাবাদকে হারিয়ে আবারো শীর্ষে উঠে গেল ধোনির চেন্নাই।

রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। সাকিব আল হাসানদের পেছনে ঠেলে দিয়ে আবার এক নম্বরে চেন্নাই। ৮ ম্যাচ শেষে ১২ পয়েন্ট চেন্নাইয়ের, সমান ম্যাচে হায়দরাবাদের পয়েন্টও একই। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে আছে ধোনিরা।

ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি করেছেন ওয়াটসন ও ধোনি। ওপেনিংয়ে ওয়াটসন ৪০ বলে করেন ৭৮ রান, আর ধোনি মাত্র ২২ বলে ৫১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকলে নির্ধারিত ২০ ওভারে চেন্নাই ৪ উইকেট হারিয়ে দাঁড় করায় ২১১ রানের বিশাল সংগ্রহ। ঋশব পান্ট ও বিজয় শঙ্করের ব্যাটে আগুন ঝরলেও হার আর ঠেকাতে পারেনি দিল্লি। ২০ ওভার শেষ তারা করতে পারে ১৯৮ রান।

ফাফ দু প্লেসিকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১০২ রান যোগ করেন ওয়াটসন। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান অবশ্য দেখেশুনে খেলেছেন, ৩৩ বলে করে যান ৩৩ রান। অন্যপ্রান্তে ওয়াটসন আক্রমণাত্মক ছিলেন বলেই হয়তো ‘নীরব’ ছিলেন দু প্লেসিস। ব্যাটে রীতিমত আগুন ঝরিয়েছেন ওয়াটসন। ৪০ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় খেলে যান ৭৮ রানের অসাধারণ এক ইনিংস।

তার গড়ে দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে দিল্লি বোলারদের ওপর টনের্ডো বইয়ে দেন ধোনি ও আম্বাতি রাইডু। রান আউট হয়ে রাইডু ২৪ বলে ফেরেন ৪১ রান করে। ধোনিকে অবশ্য আউট করতে পারেনি দিল্লি। চেন্নাই অধিনায়ক ব্যাটে ঝড় তুলে ২২ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় খেলেন হার না মানা ৫১ রানের ইনিংস।

২১২ রানের কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে দিল্লি ৭৪ রানে হারায় টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটসম্যানকে। পৃথিবী শ (৯), কলিন মুনরো (২৬), শ্রেয়াস আইয়ার (১৩) ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৬) চাপটা নিতে পারেননি। ম্যাচ থেকে তখন দিল্লি ছিটকে গেছে মনে হলেও পান্ট ও শঙ্কর জমিয়ে তুলেছিলেন খেলা।

পান্ট ৪৫ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় খেলেন ৭৯ রানের ইনিংস। আর শঙ্কর ৩১ বলে অপরাজিত ছিলেন ৫৪ রানে। তবে তাদের চমৎকার দুটি ইনিংসও ঠেকাতে পারেনি চেন্নাইয়ের জয়।