রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলবে ব্রাজিল, রানার্স আপ জার্মানি

রাশিয়া বিশ্বকাপের আর বেশিদিন বাকি নেই। আগামী ১৪ই জুন পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফিফার ২১তম এই আসরের। আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেভারিট দল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শিরোপা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছে দলটি। তবে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে আলোচনা। এবারের আসরের শিরোপা জিতবে কোন দল?

আর এ বিষয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সুখবর পেল ব্রাজিল। অস্ট্রিয়ার একদল সংখ্যাতত্ত্ববিদরা বলছেন, শিরোপা জিতেই রাশিয়া থেকে দেশে ফিরবে ব্রাজিল। তাদের মতে, রাশিয়া বিশ্বকাপের ট্রফি জিতবে ব্রাজিল এবং রানার্স আপ হবে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে যদি ব্রাজিল-জার্মানি মুখোমুখি হয় তাহলে সেই ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৫০.৬ শতাংশ। অন্যদিকে জার্মানির জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৪৯.৪ শতাংশ।

তাদের মতে রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন ও ফ্রান্সের। ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্রাজিলের মাঠে নামার সম্ভাবনা ৯.৪ শতাংশ। অন্যদিকে জার্মানির বিপক্ষে স্পেনের মাঠে নামার সম্ভাবনা ৯.২ শতাংশ।

আর এই সম্ভাবনায় ফাইনাল খেলবে ব্রাজিল-জার্মানি। আর ফাইনালে রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ১৬.৬ শতাংশ। অন্যদিকে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ১৫.৮ শতাংশ। তবে পাশাপাশি তারা জানিয়ে দিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে একাধিক অঘটন হতে চলেছে।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ভবিষ্যতবাণী করবে বিড়াল

২০১৪ বিশ্বকাপের কথা নিশ্চই মনে আছে সবার। ম্যাচের আগেই ফলাফল জানা যেত সেই বিশ্বকাপে। আর এই ফলাফল জানানোর কাজটি করত অক্টোপাস পল। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ সহ সাতটি ম্যাচের সঠিক ভবিষ্যত বাণী করে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পেয়ে গিয়েছিল সেই অক্টোপাসটি।

২০১৪ সালের সেই অক্টোপাস এবার নেই। তবে ভবিষ্যত বাণী দেয়ার কাজ থেমে নেই। এরই মধ্যে শিরোনামে এসেছে বেশ কিছু প্রানীর খবর যারা করবে ভবিষ্যত বাণী। তাদের মধ্যেই একটি হল এই বিড়ালটি।

বিড়ালটির নাম একিলিস। তাকেই বিশ্বকাপে ভাগ্য গননার জন্য অফিসিয়াল ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে এই বিড়ালটি মাঠে থাকার জন্য পাবে বিশেষ অনুমতি। ম্যাচ বাই ম্যাচ ভবিষ্যত বাণী করবে এই বিড়ালটি। সেজন্য তাকে এখন থেকেই দেয়া হচ্ছে ট্রেনিং।

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের আগে বিড়ালটিকে দেয়া হবে খাবার। আর তা দেয়া হবে দুটি পাত্রে। দুটি পাত্রের পাশে দুই দলের পতাকা থাকবে। বিড়ালটি বেছে নিবে তার পছন্দের দল। যে পাত্রটির খাবার বিড়ালটি খাবে, সেই দলটিকেই সম্ভাব্য বিজয়ী বলে ভবিষ্যতবাণী করা হবে।

ইংল্যান্ড ফুটবল দলের জার্সির বাংলাদেশে সেলাইয়ে খরচ ২৩ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৮ হাজার টাকায়

২০১৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ফুটবল কিটের মূল্য দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বলে বলা হচ্ছে। ভক্ত-সমর্থকদের জন্য দলটির অফিশিয়াল জার্সি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ হাজার টাকা।

কিন্তু বাংলাদেশের সাভার ইপিজেডের যে কারখানায় এসব পোশাক সেলাই করা হয়েছে, সেখানকার শ্রমিকরা ঘণ্টায় মাত্র ২১ পেনি বা ২৩ টাকার কিছু বেশি মজুরি পেয়েছেন। বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ইংলিশ দলের সমর্থক ও খেলোয়াড়দের জন্য ‘রেপ্লিকা’ ও ‘ম্যাচ কিট’ সরবরাহ করছে বিশ্বব্যাপী খেলাধুলার সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাইকি।

ইংলিশ ফুটবল দলের অফিশিয়াল জার্সি ও শর্টস সেলাই হয়েছে সাভার ইপিজেডের এক কারখানায়। এর মধ্যে রেপ্লিকা টি-শার্ট প্রতিটি ১১০ পাউন্ডে (বাংলাদেশি ১২৩৭৫ টাকা) বিক্রি হচ্ছে। আর ম্যাচ কিট অর্থাৎ জার্সি ও শর্টস বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১৬০ পাউন্ডে (বাংলাদেশি ১৮ হাজার টাকা)।

কিন্তু যে কারখানায় এই কিটসগুলো সেলাই হয়েছে সেখানকার পোশাক শ্রমিকরা ঘণ্টায় মাত্র ২৩ টাকার কিছু বেশি মজুরি পেয়েছেন। এ ব্যাপারে নাইকির এক মুখপাত্র জানান, তারা ‘নৈতিক ও টেকসইভাবে’ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। যা আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থার (আইএলও) বেঁধে দেওয়া মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’

বিশ্বকাপে ফিরছেন কোটি ফুটবল ভক্তের প্রিয় সালাহ!

মিশরের গণ মানুষের অলিখিত ‘রাজা’ অসংবাদিত ফুটবলার লিভারপুল তারকা মোহম্মদ সালাহর ভক্তদের সুখবর। আসছে রাশিয়া বিশ্বকাপের খেলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চোট থেকে সেরে উঠে রাশিয়া বিশ্বকাপে ‘ফিট’ বিশ্বের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার।

রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে দলে না থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিরছেন কোটি ফুটবল ভক্তের প্রিয় সালাহ।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে সের্জিও ব়্যামোসের আঘাতে বাঁ-কাঁধে গুরুতর চোট পান মিশরীয় এই সুপারস্টার। ২৬ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। তবে তারপরই বিশ্বকাপে সালাহর খেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

ফিজিওর সঙ্গে পরামর্শ করে চিকিৎসার জন্য স্পেন যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্পেনে চিকিৎসার পর অনেকটাই সুস্থ তিনি।

মেসি নেইমার গোল করলেই ক্ষুধার্ত শিশুদের মুখে হাসি!

বর্তমান সময়ে বিশ্বসেরা দুই কিংবদন্তি ফুটবলার মেসি ও নেইমার গোল করলেই এ বার থেকে হাসি ফুটবে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ক্ষুধার্ত শিশুদের মুখে! অভিনব এই পরিকল্পনা একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংস্থার।

রাশিয়া বিশ্বকাপ শুধু নয়, ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দুই তারকা যত গোল করবেন, তার প্রতিটির জন্য ১০ হাজার স্কুল পড়ুয়ার মধ্যাহ্নভোজের খাদ্যের পিছনে যাবতীয় খরচ জোগানো হবে! অবশ্য গোটা ভাবনাটাই রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’র অঙ্গ। এমন অভিনব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে খুশি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের তারকা।

মেসি বলেছেন, এমন মহান উদ্যোগে সামিল হতে পেরে গর্ব বোধ করছি। ভাবতেই পারছি না, আমাদের এক-একটা গোলের এত শক্তি। এখন থেকে গোলের জন্য প্রাণপাত করব ওদের কথা ভেবেও। আশা করি, অনেক অনেক শিশুর মুখে হাসিও ফোটাতে পারব।

নেইমার বলেছেন, আমরা চাই শিশুদের খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে। চেষ্টা করব সব রকম ভাবে এই পরিকল্পনা সফল করতে। তাই আমি আর মেসি একসঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছি।

ক্ষুধার্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দুই তারকাই এই মুহূর্ত ব্যস্ত বিশ্বকাপ জয়ে স্বপ্ন পূরণ করতে। মেসি না নেইমার— রাশিয়ায় কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ ট্রফি তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা তাঁর উত্তরসূরিকে চাপমুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কয়েক দিন আগেও তিনি বিশ্বকাপে মেসিদের নিয়ে খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না। কিন্তু মারাদোনা মানেই তো চমক।

মেসির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, আমি মেসিকে একটাই পরামর্শ দেব। নিজের খেলাটা উপভোগ করো। ওর উচিত বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে কে কী বলছে, তা নিয়ে মাথা না ঘামানো। মেসির নতুন করে কিছু প্রমাণ করার নেই। ওকে শুধু মাঠে নেমে নিজের খেলাটা উপভোগ করতে হবে।

মারাদোনা বলেছেন, সাম্পাওলি কী ভাবে দলটাকে খেলাচ্ছে, আমি জানিই না। শুধু এ বারের দলের অনেককে চিনি। আমি নিশ্চিত, দেশকে কাপ এনে দিতে এই ছেলেরা নিজেদের উজাড় করে দেবে।